Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রকল্প

            রংপুর জেলায় জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতায় মানব উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা প্রকল্প-২ (পিএলসিইএইচডি-২) এর কার্যক্রম ২০০৯ সাল হতে মার্চ ২০১৩ পর্যমত্ম জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা পরিষদ/প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় প্রকল্প বাসত্মবায়নকারী সংস্থা এসকেএস ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে বাসত্মবায়িত হয়েছে।  

            পিএলসিইএইচডি-২ প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি উপজেলায় ৩৫টি করে জেলায় মোট ২৮০টি অব্যাহত শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। প্রতি সাইকেলে প্রতিটি শিক্ষা কেন্দ্রে ৩০ জন নারী ও ৩০ জন পুরম্নষ শিক্ষার্থী  নিয়ে দুটি শিফটে মোট ৬০ জন শিক্ষার্থী  শিক্ষা ও প্রশিক্ষন লাভের সুযোগ পেয়েছে । এ পর্যমত্ম ১ম , ২য়, ৩য় ও ৪র্থ সাইকেলের কার্যক্রমে  ১১-৪৫ বছর বয়সী  এ জেলার ২৯,১৯০ জন পুরম্নষ এবং ২৯,১৯০ জন মহিলা মোট ৫৮৩৮০ জন সাক্ষরতাজ্ঞানসম্পন্ন (নব্যসাক্ষর) নারী-পুরম্নষকে এই কার্যক্রমের আওতায় এনে সাক্ষরতা দক্ষতার উন্নয়ন ও জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক বিভিন্ন ট্রেড কোর্সের আওতায় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত  শিক্ষার্থীদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য বাসত্মবায়নকারী সংস্থার মাধ্যমে লিংকেজের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। উলেস্নখ্য যে, পিএলসিইএইচডি-২ প্রকল্পের কার্যক্রম গত ১৯ মার্চ ২০১৩ তারিখে সমাপ্ত হয়েছে । কেন্দ্রঘর এবং কেন্দ্রে ক্ষেত্রে উপকরণ স্থানীয় শিক্ষা ও সামাজিক কাজে ব্যবহারের জন্য এবং পরবর্তী প্রকল্পে ব্যবহারের নিমিত্তে সংরক্ষণের জন্য পিএলসিইএইচডি-২ প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী  নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে (তিনটি পক্ষে হলো-কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, নির্বাহী প্রধান, এসকেএস ফাউন্ডেশন এবং সহকারী পরিচালক, জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, রংপুর) কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটির নিকট হসত্মামত্মর করা হয়েছে।

            সাক্ষরতা উত্তর শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় কেন্দ্রগুলোতে প্রতি সাইকেলে প্রতি শিফটে (পুরম্নষ ও মহিলা)  সরকারী ও বেসরকারী  দপ্তর/সংস্থার রিসোর্স পার্সনদের মাধ্যমে ২০টি করে  বিভিন্ন সামাজিক  ইস্যু যেমন- স্বাস্থ্য, খাদ্য, পুষ্টি, স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ব্যবহার ,এইডস ও মাদকাসক্তি বিষয়ে সচেতনতা, আর্সেনিক দূষণ ও নিরাপদ পানি, তালাক, যৌতুক, বহুবিবাহ, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ ও নারীর ক্ষমতায়ন, নারী ও শিশু পাঁচার, দুর্যোগ মোকাবেলা,জনম, মৃত্যু ও বিবাহ নিবন্ধন এবং যৌতুক প্রতিরোধ আইন, নিরাপদ মাতৃত্ব, শিশু স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা, প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ, বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতীয় দিবসসমূহ, সামাজিক জীবন সংশিস্ন­ষ্ট গুরম্নত্বপূর্ণ আইন সম্পর্কে ধারণা, সঞ্চয়, লাভজনক স্থানীয় প্রকল্পে বিনিয়োগ, আত্মকর্ম সংস্থান ও স্বাবলম্বিতা, প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও  দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা, উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ কৌশল ছাড়াও আরো গুরম্নত্বপুর্ণ ইস্যু  আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এই বিষয়গুলি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা লাভ করেছে এবং ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে কাজে লাগাচ্ছে।

            অব্যাহত শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় সাক্ষরতা চর্চার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নের জন্য দর্জিবিজ্ঞান, স্ক্রীন,  বস্নক, বাটিক প্রিন্ট, টাই-ডাই ও হ্যান্ড এমব্রয়ডারী, প্রাণিসম্পদ ( হাস-মুরগী, গাভী ও ছাগল পালন এবং গরম্ন মোটাতাজাকরণ),  শ্যালো পাম্প মেকানিকস, নার্সারি, সব্জি, ফুল ও ফল চাষ, মাছ  চাষ, হাউজওয়ারিং, রেডিও, টেলিভিশন ও মোবাইল সার্ভিসিং, শতরঞ্জি  ইত্যাদি  ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।  প্রশিক্ষণ প্রদানের ফলে  শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান এবং বাড়তি রোজগারের পথ সৃষ্টি হয়েছে ।